Skip to content

পবিত্র হত্যা

in#writter

আদালত! আমি কাগজের পাথরলিপি ছুঁয়ে বলছি, আমার কোনো অপরাধ ছিলো না । আমার কোনো অপরাধ নেই! আমার ছোট্ট মেয়েটাকে যেদিন ওরা টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেলো অন্ধকার নরকের দিকে, সেদিন কোথায় ছিলো আপনাদের কাগজের ঈশ্বর? কোনদিকে ছিলো আপনাদের পবিত্র ঈশ্বরীর সর্বদর্শী চোখ? আমি কোনো অপরাধ করিনি । আমার কোনো অপরাধ নেই! চার রাত তিন দিন একটাই প্রার্থনা করেছে মেয়েটা আমার, "যন্ত্রণা অসহ্য যন্ত্রণা! মুক্তি দাও আমাকে মুক্তি দাও বাবা।" হ্যাঁ মহামান্য আদালত, আমি নিজের দু'হাতে ওর মুখে স্নেহের থেকেও নরম বালিশ চেপে রেখেছি ওর মুক্তি অবধি। আমার স্নায়ুতন্ত্র তখন যুদ্ধরত সৈনিকের থেকেও নবজাতককে হাতে নেওয়া পিতার থেকেও অনেক বেশী সচেতন ছিলো । আমার মেয়েটার দেহে ছাব্বিশটা দগদগে ক্ষত ছিলো; বুকের ভিতরে অগণন। পিতৃধর্ম জানে,মেয়েটাকে আমি অজস্র মৃত্যুর মুখ থেকে কেড়ে এনেছি। কে ডাকতো ওর ব্যক্তিগত নাম! কে ওর দিকে হাত বাড়িয়ে বলতো,"কী ভীষণ নিষ্পাপ তোর মুখ!" মহামান্য আদালত, আপনার মূর্খ ঈশ্বরের প্রতি আমার কোনো শ্রদ্ধা নেই। আপনার অন্ধ ঈশ্বরীর প্রতি আমার কোনো আস্থা নেই। এইবার আপনার নির্বোধ কলমে আর একটা মৃত মানুষের ফাঁসি লিখুন । বোকা ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে!

·in#writter·by
0

No comments yet

Be the first to reply.